My Freelancing Journey — From Nothing to $5000+

November 28, 2025

My Freelancing Journey — From Nothing to $5000+

ফ্রিল্যান্সিং—এই শব্দটা আমার জীবনে প্রথম আসে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে, যখন আমি ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়তাম। তখন আমার জীবনে চলছিলো আর্থিক সংকট, প্রচণ্ড মানসিক চাপ, এবং পরিচয়হীনতার এক কঠিন সময়। বাইরে থেকে সবাই আমাকে স্বাভাবিক দেখলেও, ভেতরে ভেতরে আমি ভেঙে যাচ্ছিলাম। পকেটে অনেক সময় এক টাকাও থাকতো না। পরিবারের কাছে টাকা চাইতেও লজ্জা লাগতো, আর চাইলেও সবসময় পেতাম না।

কিন্তু আমি কাউকে কিছু বুঝতে দিইনি। মনে মনে শুধু একটা ক্ষোভ ছিলো—
“একদিন আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবেই।”

 ফ্রিল্যান্সিংয়ের স্বপ্ন শুরু

একদিন কলেজে আমার আইসিটির শিক্ষক বললেন—
সরকারি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স হবে, যেখানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে।
সেই প্রথম বুঝলাম—ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায়।

আমি আবেদন করলাম।
লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলাম এবং মেধা তালিকায় নাম উঠলো।

কিন্তু পরের দিন মৌখিক পরীক্ষায় আমার নাম আসলো না।
সেদিন মন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিলো।

সেই দিনই মনে মনে একটা শপথ নিলাম—
“ইন্টার শেষ করার পর, আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখব। ইনশাআল্লাহ।”

 

ইন্টার শেষ, কিন্তু জীবনের কঠিন সময় শুরু

১৭ অক্টোবর ২০২৩—
আমি ইন্টার পরীক্ষা শেষ করলাম (বিজ্ঞান বিভাগ থেকে)।
সবাই ভার্সিটির এডমিশন নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু আমার হাতে টাকা নেই।
বাবাকে অনেক বুঝালাম, শুধু ২–৩ মাস কোচিং সাপোর্ট করতে,
কিন্তু বাবা আমাকে সাহায্য করলেন না।

শেষমেশ ভার্সিটিতে ভর্তির ফরম কিনতেও টাকা ছিল না।

বন্ধুবান্ধব, সমাজ, আত্মীয়—
সবাই একে একে কথা শোনাতে শুরু করলো।
নিজেকে মনে হচ্ছিলো—একজন পরিচয়হীন মানুষ।

ছোট একটি স্টুডিও থেকে নতুন শুরু

বাড়ির পুরনো একটি স্টুডিও দোকানে নষ্ট প্রিন্টার ছিল।
সেগুলো অনেক কষ্টে বাবা কে বুঝিয়ে ঠিক করালাম।
৬–৮ মাস দোকান চালালাম, একজন ছাত্রকে কম্পিউটার কোর্স করিয়ে কিছু টাকা জমালাম।

কিন্তু বাবা চাইছিলেন আমি দোকান ছেড়ে চাকরি করি।
কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল—ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়া।

 

 সুযোগ পাই কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির একজন এডভোকেটের মাধ্যমে

হঠাৎ ফেসবুকে চাকরি চেয়ে পোস্ট করি।
একজন এডভোকেট যোগাযোগ করলেন।
তার পরিত্যক্ত একটি দোকান আমাকে দিলেন ৫০% ইনকামের শর্তে।

২২ জুন ২০২৪ আমি জয়েন করি।
কিন্তু আড়াই মাস পর বুঝলাম—
কাজ নেই, ইনকাম নেই, আর আমার জমা টাকাও শেষ।

এদিকে আমি জুলাই ৩১, ২০২৪ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে ভর্তি হই।
রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত ক্লাস করতাম।
দিনে দোকানে কাজ, রাতে স্বপ্নের জন্য লড়াই।

 আবার চাকরি: ১০ হাজার বেতনের Computer Operator

একদিন ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেখি—
১০ হাজার টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৪ জয়েন করি।
সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানে কাজ করতাম,
রাতে এসে ২টা পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিং ক্লাস করতাম।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিলো এটি।
মানুষের সামনে পড়লে লুকিয়ে যেতাম—
কারণ তখনও আমি ‘কেউ না’।

 

 অবশেষে প্রথম কাজ ও আমার সংগ্রামের ফল

২ ডিসেম্বর ২০২৪—
আমি পেলাম আমার প্রথম অর্ডার: $120
কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি কাজ: $10

কিন্তু দোকানের মালিকের সঙ্গে সমস্যা হওয়ায়
আমি ২৩ ডিসেম্বর চাকরি ছেড়ে দিলাম।

তারপর জানুয়ারিতে পেলাম আরেকটি কাজ $17।

দুই মাস কোনো কাজ পেলাম না,
কিন্তু শেখা বন্ধ করিনি।
ধৈর্য ধরেছিলাম।

এরপর হঠাৎ এক ক্লায়েন্ট আমাকে বড় কাজ দিলো,
যার মাধ্যমে আমি $5000+ ইনকাম করলাম এবং এখনো কাজ করছি।

 

 আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে

আজ আলহামদুলিল্লাহ—
আমি একজন Web Developer & SEO Specialist
এবং ইতিমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করছি।

যারা একসময় আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেছিল—
আজ তারা নিজেরাই যোগাযোগ করছে।

জীবন শুধু সময়ের অপেক্ষা—
তুমি থেমে না গেলে হেরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আমার বার্তা

আমি শূন্য থেকে শুরু করেছি—
পকেটে এক টাকাও ছিল না,
সমাজ কথা বলেছে,
বন্ধুরা দূরে সরে গেছে,
পরিবার থেকেও মানসিক চাপ ছিলো।

কিন্তু শেষমেশ আমি পেরেছি।

ফ্রিল্যান্সিং আমার জীবন বদলে দিয়েছে।
যারা সংগ্রাম করছেন—
আত্মবিশ্বাস রাখুন, চেষ্টা চালিয়ে যান।
একদিন আপনি নিজেই নিজের প্রমাণ হয়ে উঠবেন।

Osman Goni Sagor

Web Developer | SEO Specialist

Founder of osmangonisagor.com

Picture of OSMAN GONI SAGOR

OSMAN GONI SAGOR

Web Designer And Developer
I design and redesign professional WordPress websites with 24/7 support — client satisfaction is my priority